বিনয়, শ্রদ্ধাবোধ, ভদ্রতা, সম্মানবোধ ও নম্রতা ইত্যাদি
শব্দগুলোর অর্থগত ব্যাপ্তি, বাচন, উচ্চারণ অত্যান্ত সুন্দর, হৃদয়ে অনুরন সৃষ্টি
করে। ভদ্র-অভদ্র, বিশেষ-অবিশেষ, ইতর-বদমাইশ সকলেই শব্দগুলোর গভীরতা অনুধাবন করে। সুতরাং
সমাজেও এ শব্দের প্রায়োগিক প্রতিফলিত রূপ নির্বিশেষে বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রসঙ্গগত একটি উদাহরণ লক্ষ্য করা যাক, রাজা প্রজাদের কাছ
থেকে বরাবরই ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়ার দাবিদার। তেমনি প্রজারাও মহামান্য রাজার
প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের অংশীদার। কিন্তু রাজার প্রাপ্য ভদ্রতা ও
প্রাপ্য সম্মানটুকু দেখাতে গিয়ে প্রজারা নিজের স্বকীয়তা হারাবে, নিজকে ছোট করবে,
খাটো মনে করবে, মনে মনে নিজকে নিজে নিজের নগণ্যতার স্মারকলিপি দিবে; তা কোনভাবেই
ঠিক নয়।
নিজকে তুচ্ছ বা অবমূল্যায়ন করে অন্যকে মর্যাদার আসনে সমাসীন
করার নামে যে ভদ্রতা- বিশেষ অর্থে তা অভদ্রতা তথা চাটুকারিতা।
কোন ব্যক্তি পদমর্যাদায় বা স্ট্যান্ডার্ড আপনার থেকে এগিয়ে
থাকতেই পারে। তার প্রতি ভদ্রতা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন; আপনার মানবিক
গুণের পরিচায়ক। তাই বলে ভদ্রতার নামে অতি ভদ্রতায়, বিনয়ের নামে অতি বিনয়ে তার কাছে
নিজকে নগন্য ভাবার কোন অবকাশ নেই। আপনি আপনার পৃথিবীর সম্রাট। আপনাকে নিয়ে আপনার
একটি একক, অদ্বিতীয় জগত। সে জগতের একচ্ছত্র অধিপতি আপনি। সে জগতের অধিপতি যদি আপন
স্বত্তা নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগে। তাহলে সে সম্রাজ্যের বিবর্তনের হাওয়া-বদল ঘটাবে কে?
যেখানে সম্রাজ্যপতি নিজেই নিজের সত্ত্বা নিয়ে কুন্ঠিত।
কাউকে শ্রদ্ধা করা বা কারোর প্রতি বিনয়ী হওয়ার মানে এই নয়
যে তার সামনে ভদ্রতার নামে কাঁচুমাচু করা, মাথা নিচু করা, নিজকে অপর্যাপ্ত বলে মনে
করা অথবা নিজকে নিছক বা অবিশেষ কেউ ভাবা।
শ্রদ্ধার নামে কারো প্রতি অতি বিনয়ী হওয়া বা অতি ভক্তি
প্রদর্শন করা অথবা আপন সত্ত্বাকে নগণ্য মনে করা বা সর্বসাকুল্যে নিজকে অবিশেষ করে
তোলা; স্রেফ কেতাদুরস্ত চাটুকারিতা।
এ প্রসঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্যটি মনে করা যায়, “অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যেকে অস্বীকার করে
ফেলা হয় । তাতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে; ও রকম মেয়েলি বিনয়ের
চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক ভালো।”
Follow Us
Were this world an endless plain, and by sailing eastward we could for ever reach new distances