recent

ঐ দিন কলিং বেল বাজতেই দরজা খুলে দেখি, আরে। এ কি! খোদ বিয়ার গ্রিলস বাসায় এসে হাজির। - আরে ওস্তাদ। আপনি এখানে। - ঐ বেটা মসকরা করস। আম...


ঐ দিন কলিং বেল বাজতেই দরজা খুলে দেখি, আরে। এ কি! খোদ বিয়ার গ্রিলস বাসায় এসে হাজির।
- আরে ওস্তাদ। আপনি এখানে।
- ঐ বেটা মসকরা করস। আমি তোরে মুরিদ করলাম কবে? থাপাড়াইয়া যামির দাঁত আড়াই ইঞ্চি ধাবাইয়া ফেলমু। ফাউল কোনহানের।
- ওস্তাদ, এক গেলাস লেবুর শরবত দিমু। দেইখা মনে হয়, অনেক জার্নি করে আসছেন।
- তোর লেবুর শরবত তুই খা। বাপের নাম ডুবাইয়া খা। তোর বাপের জনমে তুই কোনো দিন আমারে লেবুর শরবত খাইতে দেখছস। গরদব কোনহানের। সবসময় সাপ-ব্যাঙ-কেঁচো-কাউয়া খাইয়া আসতাছি। তুমি কিনা আসছ আমারে লেবুর শরবত খাওইতে। তোর লেবুর শরবত খাইলেতো আমার বদহজম হইব। আকাম বলানের তালে আছ।
- ওস্তাদ, তাইলে কি এক গেলাস দুধ দিমু?
- হ্যাঁ, দিতে পারস। অনেক দিন যাবৎ দুধ খাই না। গত কবে যে দুধ খাইছিলাম, সেইটাও ভুইলা গেছি।
- ওস্তাদ, গরম নাকি ঠাণ্ডা?
- ঠাণ্ডা দুধের চাক্কা আইনা দে। চুইষা চুইষা খাই। ফাউল কোনহানের। দুধ কি ফ্রিজ থেকে নামাইয়া ডগডগ করে খাওয়ার জিনিস। নামালি আর খালি। তোর দুধের গোষ্ঠী মারি। তোর দুধ তুই খা। কামড়াইয়া খা, ছিঁড়া খা। যেমনে খুশি তেমনে খা।
- ওস্তাদ, তাইলে এ অধম আপনার জন্য কি করিতে পারি?
- কিছু করতে হইব না। বিয়া করছস?
- জ্বী না।
- তাইতো বলি তোর এত বুদ্ধি-সুদ্ধি কম কিলিগা।
আমারে সাধস লেবুর শরবত! স্বয়ং বারাক ওবামারে হোয়াইট হাউস থেকে নিয়া পোক-জোক, সাপ-ব্যাঙ খাওইয়া ছাইড়া দিছি। তুমি আইছ আমারে লেবুর শরবত খাওয়াইতে। সামনের থেকে হর।
- ওস্তাদের মেজাজটা চড়া দেখা যায়। ব্যাপার কি?
- ব্যাপার অতি তুচ্ছ। হেলিকাপ্টারে করে আমারে পুরান ঢাকায় নামায় দিয়া গেছে। এখানে নাকি আমার এ্যাডবেঞ্চার করতে হবে। এক গলি দিয়া সতেরবার রাউন্ড দিছি। মাগার আরেক গলি খুইজা পাইতাছি না। সব গলি এক রকম লাগে। ভুলেতো এক সদ্য দম্পতির ঘরে আপন মনে ঢুইকা পড়ছিলাম। কি যে পিটানি আমারে। শেষ পর্যন্ত আন্ডারওয়ারের কিয়দংশটুকুও খুইজা পাইতাছি না।
- তাইলে ওস্তাদ একটু গরম পানি করি। ফ্রেশ একটা গোসল দিয়ে শিরায় টানটান হয়ে ঘুম দেন।
- এইটা ভালো বলছস। দে, তাইলে একটু গরম পানি দে।
চুলায় পানি গরম দিয়ে আবার আমি ওস্তাদের পাশে এসে বসি। ওস্তাদ ব্যাগ থেকে কি যেন বের করছে। আমি চোখ বড় বড় করে ব্যাগের দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি- ওস্তাদ কি আবার বাজারসধাই নিয়া আসছে নাকি? ওমা, এগুলা কি?
- তোমার বাপের মাথা। এত বড় ধামরা হইছ, এখনো এগুলা চিন না? নাইন-টেনে বিজ্ঞান বই কি মাথায় নিয়া দৌড়াইছ? পৃষ্ঠা উল্টাইয়াও দেখ নাই। এখন কিছুই চিন না। ধর, এই ব্যাগে সাড়ে তিন কেজি কৃমি আছে। ছোট কৃমি-বড় কৃমি, ইতি কৃমি-বিথী কৃমি, গুরা কৃমি-বুড়া কৃমি, ফিতা কৃমি- সিতা কৃমি। নাম না জানা আরো অনেকে।
এগুলা দিয়া মাখামাখা কইরা একটা ঝোল রান্না কর। দুই জনে একসাথে খামু।
- কি কন? ওস্তাদ।
- রবীন্দ্র সংগীত গাই। বাংলা কথা বুঝ না। না বুঝলে হেয়ারিং এইড হিসেবে এক জোড়া গুরা কৃমি কানে ঢুকাও। টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স অন নেট ও অফ নেট সার্ভিস দিব।
- ওস্তাদও দেখি, আমার সাথে মজা লন। লন লন, আসছেন আমার অতিথি হয়ে, আমার লগে মজা না লইলে কি আপনি সুর সম্রাট মাহফুজুর রহমানের সাথে মজা লইবেন।
- ঐ বেটা আজাইরা কথা রাখ। এখন কিন্তু শাস্তি হিসেবে তোর কৃমির চরচরি রাইধা খাওইতে হইব। বাঁচতে চাইলে চালু চালু কৃমির ভুনা চুলায় বসা।
- ওস্তাদ, আমিতো রান্নাবান্না করতে পারি না। তার উপরে আবার কৃমির ভুনা। রেসিপিটা একটু কঠিন হইয়া গেল না? ইউটিউবে সার্চ দিয়াও সিমিলার কোনো রেসেপি খুইজা পাইতাছি না। ক্ষমা মার্জনা করে রান্নার ফরমেটটা একটু বলবেন। এই অধম বড়ই কৃতার্থ হইতাম।
- আরে রাখ তোর কৃতার্থ। সাহিত্য ছাড়। কালকে তুই আমারে পুরান ঢাকায় অলি-গলি চিনাবি। এখন ভালো ভালো ভুনাটা চুলায় বসা। যদি না পারস, কেউরে ডেকে দুইজনে মিলে রান্না কর।
- ওস্তাদ, এই তিলোত্তমা ঢাকায় আমার কেউই নাই। কারে ডাকব।
- গার্লফ্রেড আছে?
- জ্বী, আছে।
- তাইলে তো হয়েই গেল। ওরে ডাকায় আন। দুই জনে মিলে রান্না কর, তিন জনে মিলে খামুনে।
- ওস্তাদ কি পাগল হয়ে গেছেন? ওরতো তেলাপোকা দেখলে কুচকাওয়াজ করতে করতে চোখ বড় বড় করে দম যায় যায় অবস্থা। ও চব্বিশ ঘন্টা ছারপোকার ঔষধ সাথে নিয়া ঘুরে বেড়ায়।
- তুই যেমন আহাম্মক। তোর গার্লফ্রেন্ড আরেক আহান্মক। দুই আহাম্মক একসাথে মিলছে। রান্না তোদের করতেই হবে। তুইও করবি, তোর গার্লফ্রেন্ডও করব। দরকার পরলে পুরা ঢাকাবাসীরে তোদের রান্না করা কৃমির রেসিপি দিয়া মধ্যাহ্নভোজ করামু। যা, ফাউ প্যাঁচাল না পাইরা, রান্না বসা।
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে, অবশেষে গার্লফ্রেন্ডকে ফোন দেই। সারপ্রাইজ দেয়ার কথা বলে বাসায় আনি। বাসায় এসে ওর চৌদ্দ গোষ্ঠী জীবনে যে সারপ্রাইজ দেখে নাই, ও ঐ সারপ্রাইজ দেখে আচমকা আমার গালে কষিয়ে এক চড় বসিয়ে দিল। সাথে বলল- ফাজলামো করার আর জায়গা পাও না। মাইয়া মানুষ দেখলেই ফাজলামি করতে মন চায়। থাপড়াইয়া চোয়াল কিন্তু দুই ইঞ্চি আলগা করে ফেলমু। তোরে এই অদ্ভুত ধরনের আইডিয়া দিছে কোন হারামজাদায়। ওরে বের কর। ওর গালে কষিয়ে একটা চড় দিয়া সারপ্রাইজ দিয়া দেই।
আমি ওস্তাদেরে খুঁজতে খুঁজতে পাশের রুমে যাই। গিয়ে দেখি, বিয়ার গ্রিলস মামা জানালা দিয়া লাফ মাইরা, ভেটকি মাছের মতো ভেটকাইয়া চিত হইয়া পইরা রইছে।

আমি বিজয় ভালোবাসি তাইতো শতাব্দীর পরে বিজয়ে ফিরে আসি। বিজয় পেয়ে শিখেছি আমি অনাবিল হাসতে। বিজয় পেয়ে শিখেছি আমি অন্তহীন ভালোবাস...


আমি বিজয় ভালোবাসি
তাইতো শতাব্দীর পরে বিজয়ে ফিরে আসি।
বিজয় পেয়ে শিখেছি আমি
অনাবিল হাসতে।
বিজয় পেয়ে শিখেছি আমি
অন্তহীন ভালোবাসতে।
বিজয়- আমার অন্ধত্বকে হার মানিয়ে
দেখিয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড
বিজয়- আমার অচঞ্চল হাতকে ছোঁয়ে করেছে
প্রথমা আকাশ বিদীর্ন।


কিন্তু বিজয়ের গৌরিন্ন ভুলে
আমি হত্যা করেছি-
একদল ফুল কুড়ানো পথ শিশু
কখনো বা আমি হত্যা হয়েছি
উগ্রবাদী-মৌলবাদী-নাস্তিক আখ্যায়িত হয়ে
আমাকে উলঙ্গ রাস্তায় জানোয়ারের ন্যায়
জবেহ করা হয়েছে।
আফসোস!
আমার চোখে ওরা বিজয় দেখেনি।
কিন্তু-
আমি ওদের চোখে পরাজয় দেখিছি
ভয় দেখেছি
আতঙ্ক দেখিছি
তবুও আমি অস্ফুটে একবারও বলতে পারিনি।
আমি বিজয়ী; রন্ধ্রে নেই আমার পরাজয়।


আমি বিজয় ভালোবাসি
তাইতো শতাব্দীর পরে বিজয়ে ফিরে আসি।
ফিরে এসে- নিছক কোনো তোপধ্বনি নয়
নয় কোনো মহাবিপদ সংকেত
চোখ উপড়ে দেই অদম্য ব্যক্তিত্ব ও সাহসের
যে কিনা তার বিজয় ভরা উন্মাদ যৌবন দাবদাহে লিখে-
আমি প্রস্তর হয়ে মরলাম উদ্ভিদ হতে
উদ্ভিদ হয়ে মরি, তো উত্থিত প্রাণে
মানুষ হয়ে উঠলাম পরে, যখন সত্য উদ্ভাসিত হলো
ভয় কিসের? দ্বিধা কেন মৃত্যুতে?”


সে তার অনূর্ধ্ব আঠারোতে সব জঞ্জাল মুড়িয়ে
বিজয়ের রস আস্বাদনকারী বীভৎসের কথা
একজন শহীদের ময়নাতদন্তশিরোনামে লিখে-
ওরা ছুরি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে কণ্ঠনালি
ওরা উল্লাসে দেখে; কীভাবে শরীর থেকে
বৃষ্টির মতো রক্ত গড়ায়
ধারালো অস্ত্র দিয়ে; শরীরের চামড়া ছিলে নেয়
এবং দেখে ভেতরের মাংসপেশি ও হাড়গোড়।
ওরা টুকরো টুকরো করে হাড়গোড়,
খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে; বীভৎস উল্লাসে।
ওরা সেই সব মৃত মানুষের মাংস খায়
বর্বর অন্ধকার যুগে যেমনি মানুষখেকোরা
ভক্ষণ করেছে তাদের স্বজাতিকে।


বিজয় পেয়ে দেখেছি আমি
কীভাবে মানুষখেকোরা ভক্ষন করে
প্রিয়জনের স্তন, দূরদর্শীদের দৃষ্টি
ছেলেহারা বাবার দুচোখ বেয়ে
বয়ে চলা অবিরাম বৃষ্টি।


বিজয় পেয়ে দেখেছি আমি
লাল-সবুজে চোখ বেঁধে; সৌন্দর্য-কুৎসিতের মাঝে
পুরো পৃথিবী আমিময়।
বিজয় পেয়ে দেখেছি আমি
অত্যাচারীর শাস্তি হয় না; শাস্তি হয় অত্যাচারিতের
সত্যের শাস্তি হয়; মিথ্যের নয়।।


বসন্তের কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আবেগে বশীভূত হয়ে হাঁটছ তুমি হেলে দুলে অচেনা এক পথের প্রান্ত ধরে ঝিঁ ঝিঁ পোকার চিৎকারের সুরে খুব খোঁ...


বসন্তের কোন এক পড়ন্ত বিকেলে
আবেগে বশীভূত হয়ে হাঁটছ তুমি হেলে দুলে
অচেনা এক পথের প্রান্ত ধরে
ঝিঁ ঝিঁ পোকার চিৎকারের সুরে
খুব খোঁজছ এদিক ওদিক মাথা নেড়ে
তোমার পথ ভুলে গিয়ে
খোঁজছ তুমি অরণ্যে হারিয়ে
গোধূলি লগ্ন কেটে গেলে
হঠাৎ তুমি ভীতু হয়ে
চারদিকে তাকাচ্ছ বারেবারে
আবেগের ছলে, গহীন বনে
পথ ভুলে গেছি একবারে
কি করি? হায়! এখন তবে
মা বকবে আচ্ছাভাবে
মায়ের বকনি বাদই দিয়ে
ভূতের ভয়ে বরফ হয়ে
হারিয়েছি ভাষা চিরতরে
ঠোঁট কাঁপছে ধীরে ধীরে
জলের তৃষ্ণায় প্রান ফাটে যে

এমনি করে কাটলে সময়
আমি ভাবি মনকে ফিরাই
ভূত বলে কিছু নাই যে ধরায়
হঠাৎ করে এক শব্দ করে
পড়ল ডাল গাছের হয়ে
ভূত বুঝি আসছে তেড়ে
নিতে আমার প্রান পাখিরে
ভয়ে মোর প্রান যে যায়
আমি বলি এখন কি উপায়
পিছনে আমি ফিরে দেখি
শুকনো ডাল পড়ছে খসে
গাছের ঐ মাথা থেকে
এখনো মোর কাঁপছে যে বুক
এ বুঝি আসল যে ভূত

ঐ বুঝি ভূত পিছন থেকে
ঝাপটে ধরে চোখ বন্ধ করে
অচেনা এক রাজ্যে নিয়ে
মুক্তা মহর হাতে তোলে
বলবে- এগুলো তোমার তরে
সাজ তুমি বধূ রূপে
করব বিয়ে খনিক বাদে
হঠাৎ আমি আঁতকে উঠে
বলি। কি ভাবছি আমি এসব নিয়ে
মোর চিন্তার ব্যাপক প্রসার
এই ভেবে মোর হাসি ফোটে
বাহ-বাহ দিচ্ছি নিজকে নিজে

দূর থেকে এক ক্ষীণ আলো
আসছে ধেয়ে আমার পানে
এবার আমি নিশ্চিত যে
এখনই আমি পড়ব ধরা
পালাবার নাই কোনো ইচ্ছা
এক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে
দেখছি আমি আলোকেরে
আস্তে আস্তে স্পষ্ট হয়ে
বনের আঁধার দূরীভূত করে
আসল এক আলোক কুন্ড
আমার সামনে শান্ত হয়ে
কিছুক্ষণ জলে নিবিড়
নিভে গেল ধমকা তরে
আচমকা এক শব্দ হঠাৎ
ভেসে আসল আমার কর্ণে

আমি বলি, কে তুমি হে?
পরিচয়টা দিয়ে দাও মোরে
কোথা থেকে আসলে কি বা
এ অরণ্যের মাঝখানে
ওপার নিশ্চু হয়ে
নিচ্ছে কথা মাথা ভরে
উত্তরের অপেক্ষায় আমি তখন
মরিয়া যে একেবারে
তবুও সে বলছে না কথা
তার এত কিসের ব্যথা
ব্যথায় তো আমিও আছি
বলেতো একাই যাচ্ছি
এবার আমি আর না পেরে
এক নাগারে প্রশ্ন করে
বিব্রত এখন নিজেই নিজে
কার সাথে আমি বলছি কথা
সে কি এখানে আছে একা
অন্ধকারে তার পাইনি দেখা
এখন আমি সত্যি ভয়ে
আরো কাতর জীর্ন হয়ে
হঠাৎ এক বুদ্ধি চেপে
পায়ের কাছে থেকে ঢিল নিয়ে
মেরেছি এক বরাবর সরে

আহ্ আহ্ শব্দ করে, বলছে আমায় বারেবারে
কেন তুমি মারছ মোরে?
কী অপরাধ আমার তরে?
বল, এই গহীন বনে
জানবেনা সেটা জনে জনে
তোমার খোঁজে এখানে এসে
বল কি আমার এ-ই প্রাপ্য
প্রথম দিলে কথার পিটুনি
পরে দিলে মার
এখন মোর কি করার আছে
বল আগে তার

স্বরটা খুব পরিচিত! মানুষটি কে?
এটা আমি পারব না বলতে এই গহীন অরণ্যে
চিন্তার গভীরতা কতখানি আমার। সেটা’তো আমি জানি
চিন্তায় গেলে সেটা আমি বলতে পারব এখুনি
ততটুকু সময় নেই যে আমার; তোমার নামটা কি?
বাছা ছেলে! কে তুমি? বল, নামটা শুনি।

কখনো আমি পাইনি চোট, এতটুকু দিলে
আজ বুঝেছি, তোমায় ভালোবাসে নিজকে জড়িয়ে
বড় ভুল করেছি জীবনে
কত ব্যথা দিতে পার; দাও দেখি মোরে
আজকে আমি বুক ভরা ব্যথা নিয়ে যাব এই অরণ্য ছেড়ে।।
   


নীরার জন্য আমি সেদিন করেছিলাম পণ নাই বা দেব আর কাউকে আমার কচি মন ফের তারপর যাচ্ছিল ভালো, আমার দিনকাল ইলিশ ঝোলে কাঁচা লংকা, লাগে ...


নীরার জন্য আমি সেদিন করেছিলাম পণ
নাই বা দেব আর কাউকে আমার কচি মন
ফের তারপর যাচ্ছিল ভালো, আমার দিনকাল
ইলিশ ঝোলে কাঁচা লংকা, লাগে না তাতে ঝাল
এ পাড়ায় ও পাড়ায় ঘুরে বেড়াই, সন্ধ্যা আসি বাড়ি
কান মলিয়ে বাবা তখন আমায় দেন জাড়ি
জাড়ি খেয়ে আমি খোকন, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদি
পাশ থেকে আসে যদিবা আমার যাদু দাদি
দাদি আমার খুব লক্ষ্মী, গল্প শুনায় অনেক
নীরার মতো নায়িকা থাকে, তার গল্পে হরেক
গল্পে গল্পে ঘুমিয়ে পড়ি, উঠে দেখি একি
বিছানায় আমি শিস দিয়েছি, লজ্জা আমার সে কি
নীরার যদি জানেতে পারে, আমার সাথে আড়ি
আর উঠবে না আমার পিঠে, চালাতে সে গাড়ি
তখন আমার কি হবে আর, বিরহবাসন ছাড়া
নীরা আর বলবে না আমায়, যাসনে খোকন, দাঁড়া
নীরার সাথে হবে না রস, আগের মতো শত
মুখ ফিরিয়ে যাবে চলে, করে মাথা নত
পিছু থেকে যদিবা আমি ডেকে হইবা সাড়া
নীরা তখন অনেক দামী, মিটারে উঠে ভাড়া
নীরা সে কি ভুলে গেছে, লজেন্স খাওয়ার কথা
বাকী আছে সাতাশ টাকা, দোকানী জানে ব্যথা

বিনিমিয়ে কি, পেয়েছি আমি? নীরার ভালোবাসা

সুড়সুড়ি দিয়ে তোরা কেউ, পারলে আমারে হাসা। 

আমার সাহিত্য ভালো লাগে না , কবিতা পড়তে বিরক্তি লাগে। উপন্যাস , ভ্রমনকাহিনী , আত্নজীবনী ; এগুলো ’ তো আরো বেশি বিরক্তিকর। ...


আমার সাহিত্য ভালো লাগে না, কবিতা পড়তে বিরক্তি লাগে। উপন্যাস, ভ্রমনকাহিনী, আত্নজীবনী; এগুলোতো আরো বেশি বিরক্তিকর।

আমি জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি কবি গান শুনি না। আমি শুনি- পোপ, রক, হিপ-হপ, ফিউশন, মর্ডান গান। জারি, সারি কি আমার সাথে যায়?

আমি তিন-চার জনের সাথে অ্যাট অ্যা টাইম প্রেম করছি। কেউই এখন পর্যন্ত বুঝতে পারেনি। ডেটে যাই, চিল করি, পুরা অস্থির লাইফ।

আমি যাদের সাথে রিলেশন করি, তাদের প্রত্যেকের ফেইসবুকের পাসওয়ার্ড জানি। ব্ল্যাকমেইল করে পাসওয়ার্ড নিয়ে নিছি। কিন্তু আমার পাসওয়ার্ড কেউ জানে না। বুঝতে হবে মামা।

আমি উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত মরা ছবি দেখি না। এগুলো কি দেখার ছবি। অ্যাকশন নাই, কোনো মোশন নাই। ধুর।

আমি হলফ করে বলতে পারি, স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে, “লাইব্রেরী কই?” তা আমি জানতাম না। লাইব্রেরীর আশেপাশে থাকা তো দূরের কথা। আর লাইব্রেরীতে গিয়ে দুমিনিট বসাতো প্রশ্নেই উঠে না।

দিন বন্ধুরা মিলে বারে গেয়েছিলাম। আনক্যান্টিমিনিটেড ওয়াটার সেবন করে তিন হাজার টাকা বিল দিয়ে আসছি। সাথে ওয়েটারে খুশি হইয়া একশ টাকা বকশিশ দিয়েছি। পিনিক কারে কয়।

গতবার লালনের আখড়ায় গিয়েছিলাম। আমার জীবনের সেরা সফর। সারা রাত বাবার আরাধনা করে, শেষ রাতে ধুঁয়ার কুণ্ডলী পাকাইছি। ঢাকা থেকে ফিল্টারসহ অন্য সব সরঞ্জামাদি ব্যবস্থা করে নিয়া গেছি। যাতে জায়গায় গিয়া ফাপরে পড়তে না হয়।

আমি পুরা উনিক। স্কুল-কলেজে কোনো ক্লাব বা সংগঠনে যোগ দেই নাই। আমার একটা স্ট্যাটাস আছে না? এগুলো করে হাবাগোবা পোলাপাইন। কাম-কাইজ নাই, হুদাই সংগঠন-সংগঠন করে।

কালকে এলাকায় গেঞ্জাম করছি। তোরাতো জানস- যেই জায়গায়ই গেঞ্জাম হউক, জায়গায়ই আমি আছি। একেবারে ফাটাইয়া দিসি।

উপরিউক্ত কথাগুলো অনেকে খুব গর্ব নিয়ে বলে। তারা মনে করে, কথায় তাদের ক্রেডিট কচি লাউয়ের ডগার মতো তরতর করে উপর্যপরি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসলে না। তাদের এই গৌরবান্বিত ক্রেডিট উপার্জন যে কোথায় যাচ্ছে, ভূতত্ত্ববিদ ছাড়া তার হদিস মেলানো অপেক্ষাকৃত দুষ্কর।

ধরনের কথায় ব্যক্তির রুচিশৈলী ফুটে উঠে। ধরনের কথা, ব্যক্তির সৌন্দর্যেরবোধের পরিচয় বহন করে। ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞায়ন হয়।

কথা বলার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের ব্যাপারে প্রতিটি ধর্মেই বলা রয়েছে। কিন্তু আমরা শুনছি কই? আমরা ধর্মের পবিত্র বানীসমূহের ব্যাপারে খুব সজাগ সংবেদনশীল। বিচার-বিশ্লেষন বাদে কোনো এক বানীকে নিয়ে আমরা হুলস্থুল কান্ড বাঁধিয়ে বসি। রেষারেষি করি, বিবেদ সৃষ্টি করি। তবে জীবনে তা প্রতিফলনের অনুপাত নিতান্তই কম। আমরা সাত-পাঁচ না ভেবে অনেক কথাই বলি এসব কথার দ্বারা যে আমার ব্যক্তিতে কালো ছাপ পড়ছে, তা  আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর তিক্ত জিনিস হচ্ছেকথা কিন্তু কথাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি উদাসীনতা অসচেতনতা। যদি একটু চিন্তা করি, পৃথিবীর সফল মানুষরা অন্যদের থেকে আলাদা কেন? কোন বিশিষ্টের কারনে তারা স্বতন্ত্র, বিশেষতর? তাহলে এর স্পষ্ট জবাব মিলবে, তাদের চেতনা কথা বলার শ্রেষ্ঠত্বের কারনে। তারা কথা বলার আগে কথার যথার্থতা, মর্মার্থ আধিপত্য খুব নিখুঁতভাবে যাচাই করে। তাইতো তাদের কথাই চিরঞ্জীব হয়ে থাকে, ইতিহাসে লেখা থাকে। আর আমরা সেই কথাই জীবন চলার পাথেয় হিসেবে গ্রহন করি। বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি জেনে বারবার চোখ বুলাই।

আপনার কথা দ্বারা যদি আপনারই মানোন্নয়ন না হয়, কথা বলার চাইতে জঘন্য নির্বাসন শ্রেয়। মানুষ হয়ে মানুষের মাঝে অনন্য হতে পারাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আর এই অর্জনে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে কথার মাধুর্যতা, কথার বিশ্লেষণবোধ, কথার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যতা বিবেচনাবোধ।

ভাবছেন, আপনি ব্যক্তি হিসেবে শুধু এককভাবে আপনাকে উপস্থাপন করছেন। প্রকৃত অর্থে তা নয়। বরং আপনি একটি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে উপস্থাপন করছেন। আপনার এমন অনেক অগভীর কথায় আপনার অগোচরে আপনারই জৌলশ হারায়, চরিত্রে কালিমা লাগে। আপনার পরিবারের ভাবমুর্তি উজ্জ্বলতা হারায়। সমাজের চিত্রে কলঙ্ক লাগে। রাষ্ট্র অমর্যাদায় ভূলুন্ঠিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আমাদের কথা বলা আরো সহজ হয়ে পড়েছে। তাই আমরা যত খুশি তত বলছি, যা ইচ্ছে তাই বলছি। আপন ব্যক্তিতের দিকে দৃষ্টিপাত-কর্নপাত নেই বললেই চলে। ব্যক্তি আপন ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে মনোযোগী হবে না। এমনটা কখনই কাম্য নয়। মানুষ জীব, জড়বস্তু নয়; যে তাকে বার্নিশ-পলিশ করে পুননির্মান করা যাবে। ব্যক্তিতে একবার কালিমা লেগে গেলে, তা পুননির্মানের সুযোগ নেই। তাই কথার জলে গাঁ না ভাসিয়ে বরং কথার জলে ডুব দেয়াই হবে ভুলের মাশুল দিয়ে শুদ্ধতার দিকে এক ধাপ হেঁটে চলা।