recent

একটি নিশ্চিহ্ন পথ। শুকনো পাতা দিয়ে মোড়ানো। বাতাসে পাতার মড় মড় শব্দের প্রতিধ্বনি হয়। সে শব্দ নিশ্চিহ্ন পথের প্রান্তে পৌঁছে না। ...


একটি নিশ্চিহ্ন পথ।
শুকনো পাতা দিয়ে মোড়ানো।
বাতাসে পাতার মড় মড় শব্দের প্রতিধ্বনি হয়।
সে শব্দ নিশ্চিহ্ন পথের প্রান্তে পৌঁছে না।
সৃষ্টি করে না কর্নে অনুরনসে শব্দ কেবল ভূ-কম্পিত করে;
জাগিয়ে তোলে নাম না জানা সহস্র পাতা।
ঘুমন্ত পাতা নব জাগরিত হয়;
শিহরিত হয়- প্রান্তদ্বয়।
শিহরিত হয়- পাতার গাঁয়ে লেগে থাকা আবর্জনা।
চিরনিদ্রিত পাতার আচমকা নিন্দ্রা ভেঙ্গে যাওয়া;
তবুও ঘুমের ঘোরে-নিশ্চিহ্ন পথের মঞ্চে নৃত্য করে;
সৃষ্টি করে ঘূর্ণিপাক
উন্মাদ হয় নতুন জোয়ারে
সে কি উন্মাদনা!
মায়ের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে বহুদিন পর ফিরে পাওয়ার উন্মাদনা
শত প্রাচীর ভেঙ্গে শত বুক বিদীর্ন করে ফিনকি রক্তে রংধনু আঁকার উন্মাদনা।সে এক রক্ষপুরের রাক্ষসীর উন্মাদনা!
তবুও উন্মাদনার জয় দিকে দিকে-
ধ্বংসের মাঝেও যে ভালবাসার স্তুপের জন্ম;
স্তুপের রন্ধ্রে বের হওয়া ধোঁয়ার কোন্ডলী;
সে ততটা দৃষ্টিগোচর নয়;
ঠাণ্ডা জ্বলেও তা ধমবার নয়;
যা আছে তা আঁকড়ে ধরে প্রজ্বোলিত হয়।
একের ছোঁয়ায় আরেক শিক্ত হয়।
একের রসে আরেক পুষ্ট হয়।
একের স্পর্শে আরেক কাতর হয়।
একের ভালোবাসায় আরেক তৃপ্ত হয়।
লজ্জিত হয় পলকহীন দৃষ্টির অভিসম্পাত দেখে;
সে অভিসম্পাত-কোন নগরী ধ্বংসের নয়;
নয় কোন গোখরা সাপের ছোবল অসহায়ে;
নয় কোন ঘৃণিত দেশদ্রোহীর পর।
সে অভিসম্পাত-সৌহার্দ্য ভেঙ্গে কাউকে গহিন নির্বাসনে পাঠানোর;
সে অভিসম্পাত উষাপতির বিভা ঘন শর্বর দিয়ে ঢেকে দেওয়ার;
সে অভিসম্পাত ভূপালের আত্নতুষ্টিতে বধ অধিরাজ্যের;
সে অভিসম্পাত পশুরাজের আতঙ্কিত ধ্বনির।

The pen is mightier than the sword. অসির চেয়ে নাকি মসির শক্তি বেশি। তাই তনুকে নিয়ে লিখছি আর অনুধাবন করছি এক মমতা...



The pen is mightier than the sword. অসির চেয়ে নাকি মসির শক্তি বেশি। তাই তনুকে নিয়ে লিখছি আর অনুধাবন করছি এক মমতাময়ী মায়ের যক্ষের ধন হারানোর বেদনা।একটি বছর কেটে গেল- উদঘাটিত হয়নি এই সরল সমীকরণের সমাধান, অমীমাংসিত রয়ে গেছে পাশবিক-মর্মান্তিক এই ঘটনার উপসংহার বিরচন বরং দিনের পর দিন নানান কর্মসূচি দিয়ে গোলা ভর্তি হয়েছে টেলিভিশনের খবর আর পত্রিকার সংবাদ। এসবের মাঝে শুধু নিরবে অশ্রুপাত করে গেছে একটি পরিবার। কি অপরাধ ছিল তাদের- যে অপরাদের দরুন গোটা পরিবারের ক্রন্দন একটি বর্ষ ছোঁয়ার পরও দৃষ্টি সীমানায়-, হারিয়ে যাওয়া রত্নের হাতছানি পেল না। তবে কি এ পৃথিবীর বুকে আরো একটি সমুদ্রের অবতারণা করবে এই পরিবার। না কি নিজ আঁখি জলে হারিয়ে যাবে কালান্তরে। সুধী সমাজ, আমরা কেবল সাধনা’ই করে গেলাম, প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য। কখনো কি ভুলাতে পেরেছি- সন্তান হারানো এক মাকে সন্তান হারানোর শূন্যতা।পূর্ন করে কি কখনো দিতে পেরেছি- এক মা হারা বাবার মাথায় স্নেহের হাত বুলানোর অভাববোধ। হাজারো টানাপড়া সংগ্রাম ও টানটান উত্তেজনায় জীবন অতিবাহিত হবে।এসবের মাঝেই তৈরি করতে হবে ঐশ্বরিক ভালোবাসা। ছড়িয়ে দিতে হবে যুগ থেকে যুগান্তরে, কাল থেকে কালান্তরে, মুছে দিতে হবে সমস্ত অশ্রুসিক্ত আঁখি আর বর্ণিল বিষাদে পরাতে হবে আমৃত্যু ফাঁসি। এর’ই ধারাবাহিকতায় মানুষ হয়ে উঠবে অজয়-অমর-অক্ষয়; অতঃপর অনিঃশেষিত সত্তা । তবে একদিন সবাই অন্তিম লগ্নে উপস্থিত হবে; জীবন সায়াহ্নের সেই সময় অকৃত্রিম জীবনের ঐক্যতান মিলিয়ে মিছে হাসি হাসার দরকার কি? বরং জীবন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে হৃদয়ের সমস্ত আবেগ দিয়ে অনুশোচনায় আঁখির জলে নিজকে অন্তত একটু ঘৃনা করি। তারপরও সমস্ত ঘৃনা আর গ্লানির অবসান না হতে নিঃশেষিত হবে আঁখি জল, তখন কেবল’ই চিরন্তন থাকবে সত্য। তবে এটিও সত্য যে- চোখ নামক অথৈ সমুদ্রের জল এক সময় নিঃশেষ হয়।তখন আর কিছু কি সেখানে থাকে? থাকে !! তীব্র ক্ষোভ আর হিংস্রতা। তবে এই অনুভূতি ন্যায়-অন্যায় প্রশ্নের উর্ধ্বে...


তনুর তরে কবিতা
১.

আমি উপন্যাসের শেষ অংশে নায়িকার মৃত্যু চাইনি।
আমি চেয়েছিলাম তাকে বাঁচাতে-
সে-ও বাঁচতে চেয়েছিল,
মঞ্চস্থ করতে চেয়েছি,
একটি বিদ্বেষহীন পৃথিবী।
পিতামাতাকে আশ্রয় দিতে চেয়েছিল চোখের নীড়ে,
সে চাই’তো তাকে নিয়ে হাজার উপন্যাস রচনা হয়ে যাক;
কিন্তু তার মৃত্যু'ত প্রথম উপন্যাসেই !
২.
আমি আমার উপন্যাসে কলঙ্কিত চরিত্র আনতে চাইনি।
কিন্তু আকস্মিক তারা এসে পড়েছে; 
লুট করেছে নায়িকার সম্ভ্রম-
টেনে-ছিঁড়ে-খুবলে খেয়েছে তার মাংস পিণ্ড।
কোথাও কোথাও লজ্জা ঢাকার আবরনটুকু উঠে গেছে,
নরপিচাশ-ইবলিশ-মাংসাশীদের ক্ষুধায়।
আর নারী শিক্ষায় ব্রতী আমার নায়িকাকে তিলে তিলে গড়া দেহখানি নিয়ে-নিথর হয়ে থাকতে হয়েছে কালো অন্ধকারে
৩.
এখন আমার উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আমি।
একজন সন্ত্রাস।শুধু অস্ত্র চাই;
প্রতি বুলেটে হত্যা করতে চাই,
আমার নায়িকার সম্ব্রম লুটকারীদের;
আমার সন্ত্রাসীপনায় নারী যদি পেয়ে যায় বেঁচে থাকার শ্বাস,
ক্ষুধিরামের মতো মৃত্যুর পর আমাকে বলা হবে না আর লাশ।
৪.
আমি শোষক।
মাথা উঁচু করে অন্যায়ের দ্বারে থামি।
আমি মানুষ না!!আমি মানবিক।
আমিই আমি।।

একটি ছাতার জবানবন্দী আমি একটি ছাতা। রোদে পুড়িয়ে, বৃষ্টিয়ে ভিজিয়ে কি’ই বা দিয়েছে আমাকে মানুষ! কি’ই বা পেয়েছি আমি! পেয়েছ...


একটি ছাতার জবানবন্দী

আমি একটি ছাতা।
রোদে পুড়িয়ে, বৃষ্টিয়ে ভিজিয়ে
কি’ই বা দিয়েছে আমাকে মানুষ!
কি’ই বা পেয়েছি আমি!
পেয়েছি কি কখনো প্রেম, ভালোবাসা?

অথচ-
এ প্রেমের সূচনা হয়েছে আমার আঙ্গিনায়,
এ ভালোবাসার আবির্ভাব ঘটেছে আমার স্পর্শে,
তবে কেন আমি প্রেম থেকে বঞ্চিত?
তবে কেন আমি ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত?
আমি কি শুধুই উন্মোচিত হয়ে অবিরাম দিয়েই যাব?
আমার কি পাওয়ার কিছু নেই
আমার কি প্রাপ্তির খাতা শূন্য থাকবে?
মানুষ হতে পারি না বলে-
একটু স্নেহ- একটু মায়া- একটু করুণা
আমার জন্য কি অবশিষ্ট রবে না?

কি না দিয়েছি আমি মানুষকে-
সর্গীয় অনুভূতি কি পায়নি আমার আড়ালে?
দেইনি কি-
সমস্ত তাপ শুষে একটু ছায়া-একটু শীতলতা।
বেঁচে থাকার অবকাশ।
তবে কেন- প্রয়োজন শেষে আমাকে সংকুচিত করে আবদ্ধ অন্ধকারে রাখা হয়?
তবে কেন- প্রত্যহ আমার খোঁজ নেওয়া হয় না?
আমি কি এতটা’ই মূল্যহীন-অসুন্দর?
তাহলে এই অসুন্দরের আড়ালে কীভাবে জন্ম নেয়!
প্রেম!
ভালোবাসা!

আমি সাধ্যাতীত চেষ্টা করি- জীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত উন্মোচিত থেকে-
মানুষের সুখ-দুঃখের করুন সাক্ষী হয়ে থাকতে;
কিন্তু আমাকে প্রায়ই-
মানুষ হিংসার বিষ বাষ্পে ব্যবহার করে,
ছুঁড়ে ফেলে দেয় রাস্তায়।
আমার অসুস্থতায় গাল-মন্দ করতে দ্বিধান্বিত হয় না কেউ।
তবে কি আমি এতকাল কিছু বিকৃত মানুষের দাসত্ব করে এসেছি?
যাদের হৃদয়ে ক্রীতদাসের প্রতি ন্যূনতম মায়া ও ভালোবাসার স্থান নেই।

অথচ-
এ স্নেহেরও তো সূচনা হয়েছে আমাকে ঘিরে,
জন্মদাত্রী কি? আমাকে সন্তানের হাতে তুলে দিয়ে;
আষাঢ়ের বৃষ্টিতে ভিজে আচ্ছাদিত হয়নি?
চৌত্রের রোদে পুড়ে বিবর্ন করেনি কি তার বহিঃআবরণ?
জীবনে অসংখ্য বার জ্বরে কাঁতরিয়ে চোখ জোড়াগুলোকে কি করেনি শুষ্ক, মলিন?
তবুও আমি মধুস্বাদ সম্পর্কের সূচনা টেনেই চলেছি-
আমার নিদারুণ কষ্টগুলোকে মাটি চাপা দিয়ে।
কারন আমার আড়ালে পৃথিবীর বুকে প্রেম-ভালোবাসা-স্নেহ-মায়া নামক সূর্যাশক্তি উদিত হয়।
আমাকে ঘিরেই তাদের বিচরণ, বেড়ে উঠা, নব প্রেমের চিত্র আঁকা।
আমার নেপথ্যে তারা সুবাস ছড়ায় সুখের- আনন্দের- জীবনের
কি বিচিত্র বাঁকে তাদের আগমন- প্রতাবর্তন- ভ্রমন।
এই মধুখনে, এই মাধুর্য লগ্নে
আমি-মিশ্রিত স্মৃতি ক’জনেরই বা মনে থাকে-
কিংবা ক’জনই বা মনে রাখে-
ক’জনই বা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে

তারা কি চায় না?
আমি জীবন উৎসর্গ করি- ভালোবাসার তরে, জীবনের তরে;
আমি জানি, একদিকে মুখ ফিরালে অন্যদিক অন্ধকার হয়
কিন্তু আমার অভয়ব’তো সে রকম নয়!
আমি শাখাপ্রশাখা বিস্তৃত এক বটবৃক্ষ।
যে কিনা পথিকের চিরাচয়িত আশ্রয়- পাখির কাঙ্ক্ষিত নীড়।
পোকামাকড়ের জীবন সংসার- সওদাগরের শীতল প্রশ্বাস।
তবুও আমার প্রতি কেন এত অগভীর ভালোবাসা?
যে কিনা শুধুই পরার্থে অবিরত কাজ করে যেতে চায়
তাকে কেন- প্রয়োজন ফুরালে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়।
তাকে কেন- খনিকের জন্য নিষ্পাপ বুকে আগলে রাখা হয় না?
জন-মানবহীন প্রান্তে কেন তাকে চাপা সুরে অশ্রু ঝরাতে হয়?
কেন তাকে- তার ভালোবাসা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না?

সামগ্রিক দিক বিবেচনায়- আমি কি ধরেই নেব;
শতাব্ধীর সম্পর্কের ইতি এভাবেই হয়।
আমি কি ধরেই নেব;
সহস্র বছরের প্রনয় পরিণতি এভাবেই হয়।
কিন্তু আমি আমার পূর্ব-পুরূষের গল্পে’তো এরকম দেখিনি।
দেখিনি এত পরিহিংসা!
দেখিনি এত আত্নস্বার্থতা।
দেখিনি এত পরিহাস।
অন্যকে খুব সযত্নে ভুলে যাওয়ার আত্নপ্রবনতা।

আমি স্রস্টার কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলাম।
আমৃত্যু আমি মানুষের জীবনে মঙ্গল বয়ে আনব।
পরমানন্দময় শান্তিতে মানুষকে মাতিয়ে রাখব।
প্রতিটি মানুষের জীবন গেঁথে দেব প্রজাপতির ডানায়।
কখনো বা রঙিন সুতোয়; কখনো বা বকুলের মালায়।
কিন্তু আমাকে’তো কাছেই ডাকা হয় না
ভালোবাসাই হয় না
আদর করে আমার গালে চুমো খাওয়া হয় না
আমি নাকি শুধুই মানুষের প্রয়োজন।
অথচ প্রয়োজন থেকেই’তো অনেক প্রণয়ের সৃষ্টি
তবে আমার ক্ষেত্রে সেরকম হয় না কেন
আমি’তো আজীবন ভেবে আসেছি,
জীবন মানে উৎসর্গ।
জীবন মানে উদযাপন।
আমি’তো জীবন উৎসর্গ করেছি ঠিকই বটে
কিন্তু আমার জীবনে উদযাপনের লেশমাত্র আনন্দ এসে ভীড় করেনি।
তবুও অন্যকে তিমির রাত্রে উত্তাল আনন্দ সমুদ্রে ভাসিয়ে রেখেছি
বেদনা মুছে দিয়ে একগুচ্ছ বর্ষাস্নাত কদম’ও হাতে তুলে দিয়েছি
হাজারো অশ্রুজল মাথায় নিয়ে ভালবাসার গান শুনিয়েছি।
 
আমি আমার জন্মকে সার্থক করতে পারিনি বটে;
তবে আমি জেনেছি-
মানুষ বড়ই স্বার্থপর।
মানুষ বড়ই হীন।
মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর।
মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ।